আগের বছর জন্মাষ্টমীর দিন হওয়া একটা ছো্ট অভিজ্ঞতাশেয়ার করছি। আমি আমার ২ বন্ধুর সাথে ইস্কনএর মন্দিরে গেছিলাম। বন্ধু দুজন ইস্কনএর মেম্বার। ওরা মন্দিরে ঢুকে গেছিল স্বেচ্ছা সেবক এর কাজে। আমি প্রসাদ এর জন্য বাইরে লাইন দিয়েছিলাম। তখনও প্রসাদ দেওয়া শুরু হয়নি,বেশ লম্বা লাইন পরেছিল। মন্দির এর ভেতর থেকে লাইন চলে এসেছিল গেট অব্দি। দুটো ছেলে মেয়ে মন্দির এর গেট এর সামনে খেলছিল। ওরা ভাই বোন , একটু আগে বাবা মার সঙ্গে এসেছে। ওর বাবার পরনে সাদা ধুতি পাঞ্জাবি, ছেলেটার ও তাই। ওর মা শাড়ি পরে এসেছিল,নর্মাল।আর মেয়েটি টপ আর প্যান্ট পরে ছিল। ছেলেটির বয়েস  ১৩ মত হবে,আর মেয়েটার আন্দাজ বছর ১১ । ওর বাবা আর কিছু টেম্পল মেম্বার এর সাথে কথা বলছিল।ওর মা পাশে দাড়িয়ে ছিল। গেট এর সামনে ওরা দুই ভাই বোন খেলছিল।মন্দিরের ভেতরে বলে ওদের খালি পা। ছেলেটা মেঝেতে হাত রাখছিল,আর ওর বোন লাফিয়ে ওর হাত টাপাড়ানোর চেষ্টা করছিলো,এটাই খেলা। মেয়েটা লাফালেই প্রথমে ছেলেটা হাত সরিয়ে নিচ্ছিল,আর মেয়েটার অন্যদিকে অপর হাতটা পেতে দিচ্ছিল,আর মেয়েটা আবার লাফাচ্ছিল। কিন্তু,একটু পরে ছেলেটা  এমন ভাব করছিলো যেন  ও হাত সরানোর সময় পাচ্ছেনা। প্রায় প্রতিবার মেয়েটা লাফিয়ে ওর হাতের উপর পা রাখছিল . তারপরছেলেটা  অন্য হাত রাখলে মেয়েটা লাফিয়ে ঐ হাতের উপর পা রাখছিল। বেশ উচু হয়ে লাফাচ্ছিল  ও,ছেলেটার ব্যাথা লাগার কথা কিন্তু সে কিছু বলছিল না।

একটু পরে গেট এর সামনেও লাইন চলে এলে  ওদের মা ওদের বাইরে গিয়ে খেলতে বলল। ওরা বাইরে চলে গেল।আমিও ওদের খেলা দেখার জন্য বাইরে এসে দাঁড়ালাম। ছেলেটা শু র‍্যাক থেকে নিজের চটি নিয়ে পরলো। তাঁরপর বোনের পায়ের কাছে হাঁটু গেরে বসে ওর পায়ে প্রথমে মোজা, তারপর স্নিকারপরিয়ে দিল। তারপর মন্দিরের উলটো দিকে একই খেলা খেলতে লাগলো। ছেলেটা হাঁটু গেরে বসে মেয়েটার এক পাশে একটা হাত পেতে দিচ্ছিল,মেয়েটা লাফিয়ে ওর স্নিকারপরা একটা পা রাখছিল প্রথমে দাদার হাতে। তারপর অন্য পাও হাতের উপর রেখে হাতটা  জুতোর তলায় ঘষছিল একটু। ওর দাদা অন্য হাতটাপেতে দিচ্ছিল আবার। ওর বোন আবার ওর ঐ হাতে লাফিয়ে পা রাখছিল।

একটু পরে প্রসাদ দেওয়া শুরু হলে ওরা চলে গেল প্রসাদ খেতে ,আমিও। ওরা প্রসাদ নিয়ে একটু ফাঁকায় দাড়িয়ে খাচ্ছিল।আমিও প্রসাদ নিয়ে ওদের পাশে দাঁড়ালাম। মেয়েটা ছেলেটার পাত থেকে যে সব প্রসাদ তার ভাল লাগে সব তুলে নিয়ে খেল। আর যেগুলো ভাল লাগেনা সেগুলো দাদার পাতে তুলে দিল। আঁখ গুল ও চিবিয়ে দাদার পাতে ফেলল। অবাক হয়ে দেখলাম,বোনের চেবান আঁখ ছেলেটা হাসিমুখে খেল।

খাওয়া হয়ে গেলে ওদের মা ওদের উপরে কৃষ্ণ মূর্তি প্রণাম করতে নিয়ে গেল। কির্তন হয়ে যাওয়ারপর সবাই সাষ্টাঙ্গে রাধা- কৃষ্ণ কে প্রণাম করতে শুয়ে পরলো। সবাই বড় ঘরের সামনের দিকে ছিল, ওরা ভাই বোন অনেক পেছনে,আমিও তাই। সবাই হাত দুটো মাথার উপরে দুপাশে রেখে মাথা মেঝেতে ঠেকিয়ে অনেকক্ষণশুয়ে রইলো প্রণাম করে। ছেলেটাও তাই করলও,কিন্তু মেয়েটা করলনা । ওর দাদা যখন মেঝেতে মাথা ঠেকিয়ে শুল তখন  ও এসে ওর দাদার সামনে দাড়াল ,ওর মাথা ঘেঁষে। আর ওর দাদা নিজের মাথাটা সামান্য তুলে বোনের পায়ের উপরে রাখলো !!!! ওহ,কি ধারুন দৃশ্য!!

 মন্দিরে ,এত লোকের উপস্থিতিতে একটা ছেলে তার বোনের পায়ে মাথা রেখে শুয়ে !! ওর পরনে বৈষ্ণব সাধুদের মত সাদা ধুতি পাঞ্জাবি,কপালে টিকা। ওর বোনের পরনে সেখানে সুন্দর দামি টপ আর প্যান্ট। ওর হাত দুটো বোনের পায়ের দুপাশে রাখা ,আর মাথাটা বোনের পায়ের উপরে। মন্দিরে দাড়িয়ে পরম ভক্তিতে ও নিজের বোনের পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করছিলো ! মিনিট তিনেক বোধহয় ঐ অবস্থায় ছিল ওরা । তারপর,ছেলেটা বোনের দুই পায়ে আলতো চুম্বন করল। ওর বোন নিজের ডান পা টা দাদার মাথায় রেখে দাদাকে আশীর্বাদ করল । তারপর ও পাশে সরে দাড়াল । ছেলেটাও উঠে পরলো। ওরা বাইরে চলে গেল,আমিও। বাকি সবাই তখন মেঝেতে মাথা রেখে ঠাকুরকে প্রণাম করছিলো।

বাইরে এসে আমার সাথে ছেলেটার চোখাচুখি হলে আমি হাসলাম, ছেলেটাও হাসল। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, কাকে প্রণাম করছিলে?? ছেলেটা  হেসে বলল ‘দেবীকে’ ।আমি হেসে বললাম ‘কৃষ্ণ মন্দিরে কোন দেবীকে প্রণাম করছিলে?’  ও বলল ‘তুমি তো দেখেছ,জানই তো কোন দেবীকে প্রণাম করলাম। আমি রোজ ঐ দেবীকে প্রণাম করি”।

এই বলে ও বোনের হাত ধরে বাইরে চলে গেল ।আবার বোনের পায়ের কাছে হাঁটু গেরে বসে ওকে জুতো পরিয়ে দিল। তারপর বোনের জুতো পরা পায়ে নিজের মাথা ঠেকিয়ে আবার প্রণাম করল নিজের বোনকে । মেয়েটাও নিজের দাদার মাথায় জুতো পরা পা রেখে হাসিমুখে আশীর্বাদ করল দাদাকে । একটু পরে ওর বাবা মা ফিরলে  ওরা চলে গেল। আমিও ফিরে এলাম দারুন একটা অভিজ্ঞতা নিয়ে।