রিয়া……

 

এক…

 

রিয়ার মনটা খুব ভাল এখন। নিজের ভাগ্যকে সে কিছুদিন থেকেই বিশ্বাস করতে পারছে না। ছোট থেকেই সে দেখে এসেছে বাবা মা তার চেয়ে দাদাকেই বেশি ভালবাসে। অবশ্য তার দাদা পড়াশোনায় এত ভাল যে সেটা অস্বাভাবিক কিছু না। রিয়ার চেহারা খুবই মিষ্টি, সুন্দরী, কিন্তু পড়াশোনায় সে চিরদিনই ফাঁকিবাজ। সে কারণে বাবা মা তার চেয়ে তার চার বছরের বড় দাদাকে একটু বেশিই ভালবাসে।
অবশ্য ওর দাদা রাজা যে এই অতিরিক্ত ভালবাসার সুযোগ নিয়েছে কখনও এমন না। নিজের ছোট বোন রিয়াকে সে চিরদিনই খুব ভালবাসে। হয়ত নিজের থেকেও একটু বেশি। বাবা মা চিরদিন রাজাকে রিয়ার চেয়ে বেশি হাতখরচ দিত, রিয়া চাইলেই তা থেকে ভাগ দিত রাজা। কেউ কোন উপহার দিলেও ছোট বোনের সংগে ভাগ করে নিত। এমনকি বোন কোন কিছু চাইলে যেভাবেই হোক সেটা পূর্ন করত রাজা।
তবু, বাবা মায়ের দাদার প্রতি পক্ষপাতিত্বপূর্ন আচরন এর পরও খুব ব্যথা দিত রিয়াকে। ক্রমশ রিয়া যখন বুঝল, দাদা তাকে খুব ভালবাসে, এবং সে যা চাইবে তাই তাকে দেবে দাদা, সে তখন এর প্রতিশোধ নিতে শুরু করল দাদার উপর। বাবা মার সামনে সে আসতে আসতে দাদার উপর ছোটখাট হুকুম করতে শুরু করল। রাজা হাসিমুখে চার বছরের ছোট সুন্দরী মিষ্টি বোন রিয়ার সব হুকুম পালন করত। রিয়া তখন ক্লাস ৭ এ উঠেছে সবে। “দাদা, টিভির রিমোট এনে দে, দাদা জল নিয়ে আয়, দাদা স্কুল থেকে ফেরার সময় আমার জন্য চকোলেট আনবি, নাহলে মার খাবি”, এইভাবেই দাদার উপর হুকুম করত রিয়া। তার বাধ্য দাদা বিনা প্রশ্নে হাসিমুখে তার সব আদেশ পালন করত। আর বাবা মা কে দেখিয়ে তাদের সামনে দাদাকে হুকুম করতে দারুন লাগত রিয়ার। বাবা মা যে দাদাকে বেশি ভালবাসে, তাকে কম, এর দারুন প্রতিশোধ সে নিচ্ছে এই ভেবে দারুন খুশি হত তার মন।
তবে তার বাবা মা স্বাভাবিকভাবেই দাদার সাথে তার এই আচরন পছন্দ করত না। তাকে বকতো দাদার সাথে এই আচরনের জন্য। অথচ, দাদাই বলত কি হয়েছে মা এতে, দাদা কি বোনের জন্য এটুকু করতে পারে না?

তার দাদা তখন সদ্য মাধ্যমিক পাশ করে ১১ এ উঠেছে। বাবা মার বাধ্য ভাল ছেলে রাজা দারুন রেজাল্ট করেছিল, রাজ্যের মধ্যে প্রথম ২০ র মধ্যে স্থান পেয়েছিল সে। তার বাবা মা ভয়ানক খুশি হয়েছিল রেজাল্ট বেরনোর দিন। বাবা মার সব মনযোগ দাদার দিকে যাওয়া রিয়ার মনে হিংসার উদ্রেক করছিল। সে মনমরা হয়ে বসেছিল পাশের ঘরে। দাদা রেজাল্ট নিয়ে সবে ঘরে ফিরেছে। বাবা তাকে জড়িয়ে ধরে বলল,” আমি আজ দারুন খুশি রে রাজা। আমাদের মুখ উজ্জ্বল করেছিস তুই। কি চাস বল তুই।”
রাজা বলল, ” প্রমিস কর আমি যা চাই তাই দেবে। না করবে না।”
ওদের বাবা খুশি গলায় বলল, ” নিশ্চয়ই দেব। প্রমিস।”
রাজা দু:খ মিশ্রিত স্বরে বলল, ” আমি পড়াশোনায় ভাল আর রিয়া একটু খারাপ বলে তোমরা রিয়াকে অবহেলা কর এটা কি ঠিক? তোমরা আমাকে নিয়ে আনন্দ করছ আর আমার বোনটা পাশের ঘরে মন খারাপ করে বসে আছে। তোমাদের কি একটুও খারাপ লাগে না। আমার আর কিছু চাই না। শুধু কথা দাও ওকে তোমরা আর বকবে না। ওর দায়িত্ব আমার, ওর খারাপ কিছু হলে আমাকে বল। আর ও আমাকে হুকুম করুক, যা খুশি বলুক, তোমরা বাধা দেবে না। আর আমাকে তোমরা এখন থেকে যা উপহার বা হাতখরচ দেবে, রিয়াকে অন্তত তার দ্বিগুণ দেবে। প্রমিস করেছিলে কিন্তু আমি যা চাইব দেবে বাবা।”
দাদার কথা শুনে অবাক হয়ে গিয়েছিল রিয়া। এ কি চাইছে তার দাদা? এরকম কেউ চাইতে পারে? পাশের ঘরের পর্দার ফাঁক দিয়ে সে উঁকি মেরে তাকিয়েছিল বাবা আর দাদার দিকে। বাবার চোখের চাউনি অদ্ভুত হয়ে গিয়েছিল ওর দাদার কথায়। ” এটা আবার কি অদ্ভুত কথা। কোথায় নিজের জন্য ভাল কিছু চাইবি, একটা ল্যাপটপ, বাইক বা অন্তত ভাল মোবাইল। তার বদলে তুই নিজের চেয়ে বোনকে বেশি জিনিস দেওয়ার জন্য রিকোয়েস্ট করছিস? পাগলামি ছাড়, ওকেও নাহয় তোর সমান হাতখরচ দেব। এখন তুই কি নিবি বল।”
রাজার গলার স্বর শক্ত হল” তুমি প্রমিস করেছিলে বাবা, আমি যা চাই তাই দেবে। আর আমি রিয়াকে কতটা ভালবাসি, তোমরা কল্পনাও করতে পারবে না। আমার গালে একটা থাপ্পর মারার পর যদি রিয়ার মুখে হাসি ফুটে ওঠে, তাহলে সেই হাসির দাম আমার কাছে কোটি টাকার চেয়েও বেশি।”
” ঠিক আছে, তাই হবে যা তুই চাইছিস। এখন থেকে তোকে ১০ টাকা দিলে রিয়াকে ২০ টাকা দেব। ওর ভবিষ্যতের চিন্তাও তোর উপর ছেড়ে দিলাম।” ওদের বাবার গলার স্বর একটু ভারি শোনাল।

” আরও একটা কথা দেওয়া বাকি রইল কিন্তু। ও যদি আমাকে হুকুম করে কখনও, বা তোমাদের মনে হয় ও আমার সংগে খারাপ ব্যবহার করছে, তাও তোমরা কিছু বলবে না। ওকে তোমরা আর কখনও শাসন করবে না। ওর ভবিষ্যত খারাপ হবে না কথা দিলাম।”
” ঠিক আছে, কথা দিলাম। তুই যা চাস তাই হবে। আর তুই দায়িত্ব নিয়ে বলছিস যখন তখন তুই দেখলে   রিয়ার ভবিষ্যত খারাপ হবে না সেই বিশ্বাস তোর উপর আছে আমার। কিন্তু ছোট বোন হয়ে ও কিছুদিন হল মাঝে মাঝেই বড় দাদার উপর হুকুম করছে দেখছি। এটা কি ঠিক? তুইই বল।”
” বাবা, সবচেয়ে বড় বেঠিক হল তোমরা ওর সাথে যা করেছ। একটা ছোট মেয়েকে পটাশোনার কারনে বাধ্য করেছ বড় দাদাকে হিংসা করতে। ওর মনের উপর কত বড় আঘাত তুমি দিয়েছ তোমার কোন ধারনা নেই। ও আমাকে হুকুম করে তাতে খারাপ কি আছে? ও খুশি হয় এতে। আর আমিও খুশি হই তাতে। ও আমার ছোট বোন, ওকে আমি নিজের চেয়ে অনেক বেশি ভালবাসি। আর যেই আচরনে কারও কোন ক্ষতি হয় না, বরং সবাই খুশি হয় তা কখনই খারাপ না। বরং সেটাই হওয়া উচিত।”
” ঠিক আছে, তুই যা বলছিস তাই হবে। আমরা আর কিছু বলব না তোদের। তোর উপর আমার ভরসা আছে।”
রিয়ার অবাক লাগছিল ভিশন। বাবা মা কেউই যেখানে তাকে ভালবাসে না, সেখানে দাদা এত ভাল হয় কি করে? এত এত বেশি ভাল? কি করে নিজের চেয়েও এত বেশি ভালবাসে তাকে যে সে হুকুম করলেও হাসিমুখে সহ্য করে? তার মুখে হাসি ফোটানোর জন্য নিজের গাল পেতে দিতে পারে থাপ্পর খাওয়ার জন্য? এক অদ্ভুত আনন্দে রিয়ার ভিতরটা গুমড়ে উঠছিল। সে আর পারল না। দরজার পর্দাটা আঁকড়ে তার মধ্যে মুখটা অর্ধেক গুঁজে ফুঁপিয়ে কাদতে লাগল আনন্দে। ঠিক সেই সময় ওর দাদা রাজা ওর পাশে এসে দাঁড়াল্ল। তারপর ওর পায়ের কাছে হাটুগেড়ে বসে ওরদিকে হাতজোড় করে বলল, ” জানি রে রিয়া, আমার জন্য অনেক কষ্ট পেয়েছিস তুই জীবনে। বিশ্বাস কর, আমি জীবনে কখনও চাইনি বাবা মা আমাকে বেশি ভালবাসুক। কখনও চাইনি তোর চেয়ে আমাকে বেশি গিফট দিক। তোকে খুব ভালবাসি রে বোন, আমি শুধু চেয়েছি তুই খুশি থাক। তোর মুখে হাসি দেখলে আমার যত ভাল লাগে, ততটা আর কিছুতেই লাগে না। তবু, আমাকে বেশি ভালবেসে আর তোকে উপেক্ষা করে বাবা মা তোকে যে কষ্ট দিয়েছে তার জন্য আমিও দায়ী। প্লিজ, এবারের মত ক্ষমা করে দে রিয়া, দেখ আর কোনদিন কেউ তোর সঙ্গে কেউ এরকম করবে না। আর আমি এখন থেকে তাই করব, যা আমার ছোট্ট বোনটা হুকুম করবে।”
এই বলে রাজা যা করল রিয়া তার জন্য প্রস্তুত ছিল না। তার পায়ের কাছে হাটুগেড়ে বসা দাদা রাজা তার নীল চটি পরা পা দুটোর উপর নিজের মাথাটা নামিয়ে দিল। ছোট্ট বোনের পায়ের উপর নিজের মাথাটা রেখে রাজা বলল,” প্লিজ বোন। আজ পর্যন্ত আমার ভুলে অনেক কষ্ট পেয়েছিস তুই। আজও পেয়েছিস। আর কখনও এরকম হবে না। প্লিজ, এবারের মত ক্ষমা করে দে আমাকে, প্লিজ।”
বাবা আর মা অবাক চোখে দেখছে তাকে আর দাদাকে। আর তার দাদা তার চটি পরা পায়ের উপর মাথা রেখে তার কাছে ক্ষমা চাইছে! এক অদ্ভুত আনন্দ রিয়ার দেহে ঝড় তুলল যেন। সে নিজে যা করল এরপর তার জন্য যেন সে নিজেও প্রস্তুত ছিল না। চটি পরা ডান পা টা তুলে সে দাদার মাথার উপর রাখল। চটির তলাটা কয়েক সেকেন্ড ঘসল নিজের দাদার মাথার উপর। তারপর চটি পরা ডান পা টা দাদার মাথার উপর স্থির করে রেখে সে বলল,” ঠিক আছে দাদা। তোকে ক্ষমা করে দিলাম যা। তবে এখন থেকে আমার সব কথা শুনে চলবি কিন্তু।”
রাজা রিয়ার বাঁ পায়ের পাতায় আলতো একটা চুম্বন করে বলল, ” নিশ্চয়ই বোন। এখন থেকে তোর প্রত্যেকটা হুকুম মানবো আমি।”
রিয়া তাকিয়ে দেখল বাবা মা হতবাক হয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে দেখছে। আর সে চটি পরা ডান পা দাদার মাথার উপর রেখে দাঁড়িয়ে আছে বাবা মার সামনে। রিয়ার মন এক অদ্ভুত খুশিতে ভরে উঠেছিল। সে সংগে সংগে দাদার মাথার উপর থেকে পা সরাল না, চটি পরা ডান পা টা দাদার মাথার উপর রেখে দাঁড়িয়ে রইল। দাদা মাথার দুই পাশে হাত ছড়িয়ে তার চটি পরা বাঁ পায়ের উপর মাথা রেখে যেন নিজের ছোট বোনকে ভক্তিভরে শাষ্টাংগে প্রনাম করছিল বাবা মায়ের সামনেই। রিয়া প্রায় ২ মিনিট দাদার মাথার উপর চটি পরা ডান পা রেখে দাঁড়িয়ে রইল। তারপর দাদার মাথার উপর থেকে পা নামিয়ে বলল,” দাদা আমার ঘরে আয়। তোর সাথে কথা আছে।” এইবলে রিয়া একবার বাবা মায়ের দিকে তাকিয়ে দেখে নিজের ঘরে চলে এল। রাজাও বোনের পায়ের তলা থেকে উঠে বোনের আদেশ মত বোনের পিছু পিছু বোনের ঘরে ঢুকল।

 

 

দুই……

 

 

নিজের ঘরে ঢুকে রিয়া নিজের খাটে পা ঝুলিয়ে বসল। আর রাজা আবার বোনের ঠিক পায়ের কাছে হাটুগেড়ে বসল। হাতজোড় করে বোনের সুন্দর মুখের দিকে তাকাল রাজা।

রিয়া রাজার দিকে চেয়ে মুচকি হাসল, তারপর দাদার দুই গালে হঠাতই পরপর দুটো থাপ্পর মারল বেশ জোরে । রাজা অবাক হয়ে তাকাল নিজের বোনের দিকে, কিন্তু একবারও বাধা দিল না। বোন দুটো থাপ্পর মেরে থামতেই রাজা ওর চার বছরের ছোট বোন রিয়ার নীল চটি পড়া দুই পায়ের উপর মাথা ঠেকিয়ে বোনকে প্রনাম করল একবার, তারপর আবার বোনের সামনে হাটুগেড়ে হাতজোড় করে বসে বোনের সুন্দর মুখের দিকে তাকাল।

রিয়া কয়েক সেকেন্ডের জন্য গম্ভীর ভাব আনার চেষ্টা করল মুখে, তারপর হাসিতে ফেটে পরল। প্রায় এক মিনিট পর হাসি থামিয়ে রিয়া দাদার দিকে তাকিয়ে বলল, “ তুই এরকম কেন রে দাদা। আমাকে ভালবাসিস বলে আমি তোর গালে জোরে থাপ্পর মারলেও বাধা দিবি না আমাকে? উল্টে আমার পায়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রনাম করবি? তুই কি পাগল রে দাদা?”

জবাবে মাথা নিচু করে ফেলল রাজা। প্রায় বোনের পায়ের দিকে তাকিয়ে উত্তর দিল, “ তোকে আমি খুব ভালবাসি রে রিয়া। বাবা মা যখন তোর থেকে আমাকে বেশি ভালবাসা দেয় তখন আমার খারাপ লাগে খুব, চিরদিনই। আমি চাই সব আদর, ভালবাসা, উপহার তুই পাস। আমি তোকে খুশি দেখে আর তোর সেবা করেই খুশি থাকব রে বোন”।

রিয়া অবাক অয়ে দাদার দিকে তাকাল। ডান হাতের পাতা দিয়ে দাদার মুখটা তুলে দাদার চোখের দিকে চাইল। “ আমি তোর চেয়ে ছোট। আমি তোকে হুকুম করলে , মারলে, তোর কি একটুও খারাপ লাগে না? তুই বড় হয়ে আমার পায়ে মাথা রেখে প্রনাম করলি, তাতেও খারাপ লাগল না তোর?”

“ না রে বোন। আমি তোকে শুধু ভালই বাসি না, তোকে ভক্তিও করি। তোকে দেখলেই কেন জানি না দেবী বা আমার প্রভু বলে ভাবতে ইচ্ছা করে। তোর পায়ের উপর মাথা রাখলে মনে হয় স্বয়ং ঈশ্বরের চরনে নিজেকে সমর্পন করেছি। তুই হুকুম করলে বা আমাকে মারলে কি যে আনন্দ পাই তোকে আমি বলে বোঝাতে পারব না রে বোন। আমি এরকমই রে বোন , প্লিজ আমার উপর রাগ করিস না, প্লিজ”। এই বলে রাজা আবার নিজের মাথাটা বোনের চটি পড়া পায়ের উপর নামিয়ে দিল। চার বছরের ছোট সুন্দরী বোন রিয়ার নীল চটি পরা পায়ের উপর মাথা রেখে ভক্তিভরে প্রনামরত অবস্থায় শুয়ে রইল রাজা।

প্রায় ২ মিনিট রিয়ার পায়ের উপর মাথা রেখে পরে রইল রাজা। তার পায়ের উপর মাথা রেখে শুয়ে থাকা দাদার দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছিল রিয়া। তার খারাপ তো লাগছিলই না, এক অদ্ভুত শান্তিতে মন ভরে গিয়েছিল। এত ভাল একটা দাদা পাওয়ার জন্য নিজেকে তার সত্যিই ভাগ্যবান বলে মনে হচ্ছিল।

প্রায় দুই মিনিট পর রিয়া নিচু হয়ে ঝুকে দাদার কাঁধ দুটো ধরে দাদাকে উঠিয়ে বসাল, তারপর মাথাটা নামিয়ে দাদার কপালে একটা চুমু একে দিল। “ তোকেও আমি খুব ভালবাসি রে দাদা, এবার খাটে উঠে বস তুই”।

রাজা হাতজোড় করে বোনের দিকে চেয়ে বলল “ প্লিজ বোন, আমাকে তোর পায়ের কাছে বসতে দে”।

হাসিমুখে দাদার গালে ডান হাত দিয়ে একটা থাপ্পর মারল রিয়া, “ আমার আদেশ অমান্য করছিস তুই?”

“ না প্রভু, আমি সরি। তোমার কোন আদেশ আমি কখনও অমান্য করব না”। এই বলে আবার রিয়ার চটি পড়া পায়ের উপর মাথা রেখে প্রনাম করল রাজা, তারপর খাটে উঠে বোনের পাশে বসল।

রাজার ডান হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় টেনে নিল রিইয়া, “ দাদা , আমি সরি। তুই এত্ত ভাল রেজাল্ট করলি আর আমি তোর খুশিতে খুশি না হয়ে হিংশুটে বোনের মতো মনে হিংসা নিয়ে পাশের ঘরে বসে ছিলাম। আর কনগ্র্যাটস এত্ত ভাল রেজাল্ট করার জন্য। আশির্বাদ কর আমিও যেন তোর মতো ভাল রেজাল্ট করতে পারি”।

“ না রে বোন, তোত কোন দোষ নেই। দোষ আমার আর বাবা মার, তোর মতো এত্ত ভাল একটা মেয়েকে ছোট থেকে এত্ত দুঃখ দেওয়ার জন্য। তবে প্রমিস করছি, আর কখনও আমি তোকে হিংসা করার সুযোগই দেব না। আর আশির্বাদ তো তুই আমাকে করবি এখন থেকে রোজ, আমার মাথার উপর পা রেখে”।

রিয়ার মুখ হাসিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল দাদার কথায়। “ একদম, লাভ ইউ দাদা”, বলে দাদার হাতটা নিজের হাতের মুঠোয় চেপে ধরল রিয়া । আর রাজা বোনের দিকে ঝুকে বোনের কপালে একটা চুম্বন করল।

“ চল দাদা, দুজনে মিলে কম্পিউটারে গেম খেলি”, রিয়া বলল খাট থেকে নিচে নামতে নামতে।

“চল”, রাজাও খাট থেকে নেমে বলল, তারপর দুজনে পাশের ঘরে গিয়ে কম্পিউটার খুলে গ্রেম খেলতে লাগল।

 

ওদের বাড়িতে সবাই খুশি আজ। পাড়ার অনেক লোকেই এসে অভিনন্দন জানিয়ে গেছে রাজাকে। ওদের বাবা মা  ভিশন খুশি রাজার রেজাল্টে। রাজাও খুশি ভাল রেজাল্ট করতে পেরে, আর তার চেয়েও অনেক বেশি খুশি বোনের মুখে হাসি ফোটাতে পেরে, আর বোনকে তার উপর যা খুশি হুকুম করার অধিকার দিতে পেরে। আর রিয়াও খুব খুশি বহুদিন পর, তার সুন্দর মুখ খুশিতে ঝলমল করছে আজ। সত্যি, রাজার মতো ভাল দাদা যেই বোনের থাকে সে কি খুশি না থেকে পারে?

ঘড়ির কাটা ১০ টা ছুলে ওদের মা খেত্যে ডাকল ওদের। রাজার দুর্দান্ত রেজাল্টের খুশিতে ওর মা আজ মটন বিরিয়ানি আর চিলি চিকেন বানিয়েছেন, সঙ্গে মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংক্স আর আইস ক্রিম তো আছেই। ৪ জনে ডাইনিং টেবিলে বসে খেতে থাকল। রান্নাটা সত্যিই ভাল করে ওদের মা তনয়া। ওরা সবাই তৃপ্তি করে বিরিয়ানি খাচ্ছিল। ওদের বাবা তরুনবাবু রাজাকে ওর ভবিষ্যত পরিকল্পনা নিয়ে জিজ্ঞেস করছিল। রিয়া দাদার কথাকে ভেঙ্গিয়ে ছোট বোন সুলভ ব্যাঙ্গ করছিল মাঝে মাঝে। তরুনবাবু খুব সিরিয়াস মানুষ, আর ক্লাস ৭ এ পরা রিয়া একটু ফাজিল। রিয়ার এত ফাজলামি করার প্রবনতা কোনদিনই সহ্য করতে পারে না ওদের বাবা। আশ্চর্য হয়ে রিয়া লক্ষ্য করছিল ওর বাবা আজ মোটেই রেগে যাচ্ছে না ।

পেটভরে ডিনার শেষ করে একসাথেই উঠল দুই ভাই বোন। রিয়া লক্ষ্য করল দাদার খাওয়া আগে শেষ হয়ে গেলেও তার আগে দাদা উঠল না। ও খাওয়া সেরে উঠলে তবেই দাদা চেয়ার ছেড়ে উঠল।

হাত ধুয়ে রিয়া চেয়ারটা ঘরের মাঝখানে টেনে বসল। একবার বাবা মায়ের দিকে আড়চোখে চেয়ে দেখল, তার চোখে মুখে এখন দুষ্টুমি ভরা হাসি।

“ দাদা, টিভিটা অন করে রিমোট টা আমায় দে তো”, বাবা মায়ের সামনেই দাদাকে দিয়ে আবার কাজ করান শুরু করল রিয়া।

“ এক্ষুনি দিচ্ছি বোন”, বলে রাজা সঙ্গে সঙ্গে টিভি অন করে রিমোট বোনের হাতে তুলে দিল।

“ এবার আমার জন্য এক গ্লাস থামস আপ নিয়ে আয়”, দাদাকে আবার হুকুম করল রিয়া।

“দিচ্ছি বোন”, বলে সুন্দর কাঁচের গ্লাসে এক গ্লাস থামস আপ এনে বোনের হাতে দিল রাজা।

“ আর কিছু করতে হবে রে বোন?”

দাদার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে হাসিমুখে একবার বাবা মায়ের দিকে আড়চোখে তাকিয়ে নিল রিয়া। তারপর বলল, “হবেই তো। চুপচাপ আমার পায়ের কাছে বস আগে”।

“ নিশ্চয়ই বোন”, এই বলে রাজা ঠিক রিয়ার পায়ের কাছে বসে পরল।

দাদার কোলের উপর নীল চটি পড়া পা দুটো তুলে দিল রিয়া। “ আমার পা দুটো খুব ব্যাথা করছে। এবার ভাল দাদার মতো ছোট বোনের পা টিপতে থাক।

“ অবশ্যই বোন। যখনই তোর পায়ে ব্যাথা করবে আমাকে বলিস, আমি তোর পা টিপে দেব”, রিয়ার পা টিপতে টিপতে উত্তর দিল রাজা।

রিয়া অবাক হয়ে দেখল ওদের বাবা মা কেউই ওকে বারন করল না আজ। বোধহয় দাদাকে বাবা কথা দিয়েছে বলেই কিভহু বলল না। এর মানে এখন থেকে সে সত্যিই বাবা মার সামনেই দাদাকে যা খুশি হুকুম করতে পারবে! ভাবতেই দারুন আনন্দে ভেসে যেতে লাগল রিয়া।

রিয়ার পরনে ছিল একটা কাল টপ আর ধুসর লেগিন্স, পায়ে নীল চটি। ওর নীল চটি পরা পা দুটো রাখা ওর দাদা রাজার কোলে। আর দাদা যত্ন করে ওর পা দুটো পালা করে টিপে দিচ্ছিল। একবার বাঁ পায়ের পাতা থেকে শুরু করে পায়ের কাফ অবধি টিপছিল, তারপর আবার নেমে আসছিল পায়ের পাতায়। তারপর পা বদলে একইভাবে ছোট বোন রিয়ার ডান পা টা টিপছিল রাজা। তারপর আবার অন্য পা টিপছিল। এইভাবে বাবা মার সামনে ভক্তিভরে ছোট বোন রিয়ার পা টিপে যাচ্ছিল রাজা। আর সিনেমা দেখতে দেখতে দাদাকে দিয়ে পা টেপাচ্ছিল রিয়া আর কোল্ড ড্রিংক্সের গ্লাসে ছোট ছোট চুমুক দিচ্ছিল । পা টেপানোয় সত্যিই আরাম বোধ করছিল সে, তবে তার চেয়েও ভাল লাগছিল বাবা মায়ের সামনে এইভাবে দাদাকে দিয়ে পা টেপানোর ক্ষমতা পেয়ে। ওর বাবা মা চিরদিন দাদাকে তার চেয়ে অনেক বেশি ভালবাসা দিয়ে এসেছে, দাদা পড়াশোনায় বেশি ভাল বলে। আর সেই দাদা যেদিন মাধ্যমিকে এত ভাল রেজাল্ট করল সেইদিনই সে বাবা মায়ের সামনে সেই দাদাকে দিয়ে পা টেপাতে পারছে! এটা ঠিক এই ক্ষমতা সে দাদার জন্যই পেয়েছে, তবু এইভাবে বাবা মার সামনে দাদাকে দিয়ে পা টেপাতে পেরে এক অদ্ভুত আনন্দ পাচ্ছিল রিয়া। সে মনে মনে ভাবল, সিনেমাটা শেষ হতে আরও প্রায় দুই ঘন্টা বাকি। এই পুরো সময় সে দাদাকে দিয়ে পা টেপাবে। আর এরপর থেকে রোজই রাতে খাওয়ার পর এভাবেই বাবা মার সামনে দাদাকে দিয়ে পা টেপাবে সে। বাবা মা দাদাকে মাথায় তুলে তাকে অবহেলা করতে চেয়েছিল, এখন দেখুক সেই দাদা তার পায়ের কাছে বসে চাকরের মতো তার পা টিপে দেয় রোজ। রিয়া আড়চোখে দেখল বাবা মা খাওয়া শেষ করে ঘরের কোনে পাতা সোফায় বসে এক দৃষ্টে ওদের দেখছে। কিন্তু দাদাকে কথা দেওয়ায় ওকে আর বাধা দিতে পারছে না।